আক্বিদা

নজদী-তাইমী ফেতনা মোকাবিলায় হিন্দুস্তানী উলামায়ে কেরাম (৭)


হিন্দুস্তানের একজন বিখ্যাত আলিম ছিলেন মুফতী সদরুদ্দীন রহ:। দিল্লিতে তিনি উলামায়ে কেরামের সর্বোচ্চ পদ সদরুস সুদুর হিসেবে কাজ করেছেন দীর্ঘ সময়। হিন্দুস্তানের অনেক বড় বড় আলিম উনার ছাত্র ছিলো। সব ঘরাণা থেকে উনার কাছ থেকে উপকৃত হয়েছে। যেমন, স্যার সাইয়্যেদ আহমাদ, নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান ভূপালী, মাওলানা কাসেম নানুতুবী, মাওলানা রশীদ আহমাদ গাংগুহীসহ বিখ্যাত অনেকেই তার ছাত্র ছিলেন। দেওবন্দী উলামায়ে কেরামের সাথে সম্পৃক্ত বহু উলামায়ে কেরাম মাওলানা সদরুদ্দীনের ছাত্র ছিলেন। যেমন, মাওলানা মাজহার নানুতুবী, মাওলানা জুলফিকার আলী (দেওবন্দের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য)। মাওলানা আবুল কালাম আজাদের পিতা মাওলানা খাইরুদ্দীন সহ বিখ্যাত বহু আলিম তার শিষ্যত্ব গ্রহণ করেন।

মাওলানা ফজলে হক্ব খাইরাবাদী, মাওলানা ফজলে রাসূল বাদায়ূনীদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তিনি সেসময়ে হিন্দুস্তানে জন্ম নেয়া নজদী-তাইমী ফেতনা মোকাবিলায় সরব ছিলেন। বিশেষ করে মাওলানা ফজলে হক্ব খাইরাবাদী ও মাওলানা ফজলে রাসূল বাদায়ূনীর বিভিন্ন কিতাবে উনার প্রশংসাবাণী রয়েছে। হিন্দুস্তানে আরবী সাহিত্য ও ইলমে কালামের চর্চার ক্ষেত্রে যাদেরকে পথিকৃৎ মনে করা হয়, মাওলানা সদরুদ্দীন ছিলেন তাদের প্রথম সারিতে। আরবী সাহিত্যের পাশাপাশি উর্দু সাহিত্য ও কবিতাতে গালিবদের সাথে ছিলো মাওলানার ওঠাবসা।

মুফতী সদরুদ্দীনের উল্লেখযোগ্য একটি ইলমী কাজ হলো, মুনতাহাল মাকাল ফি শরহি হাদীসি লা তুশাদ্দুর রিহাল। অর্থাৎ তিন মসজিদ ছাড়া অন্য কোন মসজিদের উদ্দেশ্যে সফর নিষিদ্ধ হওয়ার বিষয়ক হাদীস দিয়ে তাইমীরা নবীজীর কবর জিয়ারতকে হারাম সাব্যস্তের চেষ্টা করে। মুফতী সদরুদ্দীন এর শক্ত ইলমী খন্ডন করেন। মুফতী সদরুদ্দীন এই কিতাবটি এ বিষয়ে একটি অনন্য রিসালা বলা যায়।

কিতাবের ভূমিকায় তিনি সেসময়ের জন্ম নেয়া লা-মাজহাবি নজদী-তাইমী ফেতনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন,

"বর্তমানে কিছু লোক বের হয়েছে যাদের মূল কাজ হলো মুজতাহিদ ইমামগণের উপর আক্রমণ করা। ওলী-বুজুর্গদের সমালোচনা ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা। ইবনে তাইমিয়ার ইকতিদাউস সিরাতিল মুস্তাকিম ও ইবনে হাজামের আল-মুহাল্লা এদের মূল সম্বল। আর ইবনে তাইমিয়া এবং ইবনে হাজম হলো এই দলের মূল ও কেন্দ্রবিন্দু। এরা সঠিক পথ থেকে বিচ্যূত হয়ে ভ্রান্তির বেড়াজালে ঘুরপাক খায়। এদের না আছে কোন দলিল না আছে কোন সঠিক পথপ্রদর্শক। এভাবে তারা বহু মানুষকে গোমরাহ করছে এবং নিজেরাও পথভ্রষ্ট হয়েছে।"

এখানে উলামায়ে কেরামের জন্য মুনতাহাল মাকালের ভূমিকার কিছু স্ক্রিনশট দেয়া হলো। হিন্দুস্তানের ইতিহাস পড়লে অবাক হতে হয়। প্রাচীন উলামায়ে কেরাম সমস্যার মূল চিহ্নিত করে অত্যন্ত বলিষ্ঠভাবে সেটি খন্ডন করেছেন। এ অঞ্চলের সমস্ত ফেতনার গোড়া যে ইবনে তাইমিয়া ও ইবনে আব্দিল ওয়াহহাবের মতাদর্শের কারণে হয়েছে, তারা খুব স্পষ্ট ভাষায় বলে গিয়েছেন। কিন্তু দু:খজনক বিষয় হলো, আমরা আমাদের প্রাচীন এই তুরাস থেকে বিমুখ হয়ে নজদী-তাইমীদের ভ্রষ্টতায় গা ভাসিয়ে দিয়েছি। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে হেফাজত করুন।


 

------ ------

এই বিষয়ে আরও জানতে চান?

আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।

নির্ভরযোগ্য গোপনীয় দ্রুত উত্তর

মন্তব্য 0

আপনার মন্তব্য জানান
এখনো কোনো মন্তব্য নেই
প্রথম মন্তব্যকারী হোন! আপনার মতামত আমাদের কাছে মূল্যবান।

লেখকের আরো ব্লগ

আক্বিদা

সালাফী আক্বিদা কেন বাতিল এবং সালাফীরা কেন পথভ্রষ্ট?

ইজহারুল ইসলাম · 14 Mar, 2026 · 299
আক্বিদা

মিলাদ ইত্যাদি নিয়ে এতো এতো প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে, এটা ছেড়ে দিলে সমস্যা কোথায়?

ইজহারুল ইসলাম · 14 Mar, 2026 · 260
ফিকহ

তারাবীর নামাযের ইমামতির হাদিয়া গ্রহণ: শরয়ী দৃষ্টিকোণ

ইজহারুল ইসলাম · 13 Mar, 2026 · 911
আক্বিদা

ইবনে উমর রা: এর শানে ইবনে তাইমিয়ার বেয়াদবি ও শিরকের অপবাদ (১ম পর্ব)

ইজহারুল ইসলাম · 30 Jun, 2023 · 307