সউদি মুফতী বোর্ডের ফতোয়া:
ফতোয়া নং-২৮০৮
প্রশ্ন: আমি কিছু লোক থেকে একটা হাদীসে কুদসী শুনেছি। এর বক্তব্য হলো, ” হে আমার বান্দা, তুমি আমার অানুগত্য করো, তুমি আমার প্রিয় বান্দাদের অন্তর্ভূক্ত হবে। এমনকি তুমি কোন কিছুকে হও বললে তা হয়ে যাবে।
উত্তর:
হামদ ও সালাতের পর,
কোন হাদীসের কিতাবে এজাতীয় কোন হাদীস পাইনি। হাদীসের বক্তব্য প্রমাণ করে এটি একটি জাল হাদীস। কেননা, এই হাদীসে দুর্বল বান্দাকে শক্তিধর আল্লাহর স্তরে উন্নীত করা হয় অথবা তার শরীক বা অংশীদার সাব্যস্ত করা হয়। আল্লাহ তায়ালা অংশীদার থেকে মহা পবিত্র। এধরনের বিশ্বাস শিরক ও কুফর। কেননা, আল্লাহ তায়ালা কোন কিছুকে হও বললে তা হয়ে যায়। যেমনটি আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা যখন কোন কিছুর ইচ্ছা করেন, তিনি হও বলেন। তৎক্ষনাত তা হয়ে যায়।
ফতোয়ায় সাক্ষর করেছে,
ইবনে বাজ (প্রধান)।
আব্দুর রাজ্জাক আফিফী (সহকারী প্রধান)।
আব্দুল্লাহ বিন গদিয়ান। (সদস্য)
আব্দুল বিন কুউদ (সদস্য)
[ফতোয়াল লাজনা, খ.৪, পৃ.৩৭২]
স্ক্রিনশট:

ইবনে তাইমিয়া রহ.তার মাজমুয়াতুল ফাতাওয়া-এ লিখেছেন,
” একটি আছার বর্ণিত আছে, হে আমার বান্দা, আমি যখন কিছুকে হও বলি, তা হয়ে যায়। তুমি আমার আনুগত্য করো। আমি তোমাকে এমন বানাবো যে, তুমি কিছুকে হও বললে তা হয়ে য়াবে। হে আমার বান্দা। আমি চিরণ্জীব যে কখনও মৃত্যুবরণ করবে না। তুমি আমার আনুগত্য করো, আমিও তোমাকে এমন জীবন দান করবো যে, তুমি মৃত্যুবরণ করবে না।”
অপর একটি বর্ণনায় রয়েছে,
“মু’মিনের নিকট আল্লাহর পক্ষ থেকে হাদিয়া এসে থাকে। এমন সত্ত্বার কাছ থেকে হাদিয়া আসে যিনি চিরন্জীব, কখনও মৃত্যুবরণ করবে না। এমন বান্দার কাছে হাদিয়া আসে যে কখনও মৃত্যুবরণ করবে না। “
একজন মু’মিনের এটিই চূড়ান্ত স্তর। এরপরে কোন উদ্দিষ্ট স্তর নেই। এটা কেন হবে না? সে আল্লাহর মাধ্যমে শ্রবণ করে, আল্লাহর মাধ্যমে দেখে, আল্লাহর মাধ্যমে ধরে, আল্লাহর মাধ্যমে হাটে, সুতরাং আল্লাহর শক্তিতে কী সে বলিয়ান হবে না?”
[মাজমুয়াতুল ফাতাওয়া, খ.৪, পৃ.২৩০-২৩১]

মন্তব্য: সালাফী ভাইদের কাছে নিবেদন, ইবনে তাইমিয়া রহ. সম্পর্কে আপনাদের মন্তব্য কী? আশা করি, এড়িয়ে যাবেন না। উত্তর দিয়ে বাধিত করবেন। দ্বিতীয়ত: বান্দা না মরার উক্তিটি ইবনে তাইমিয়া রহ. স্পষ্টভাবে তার কিতাবে লিখেছেন। একই কথা কোন দেওবন্দী আলেম তার কিতাবে লিখলে তাকে কাফের বলার জন্য উঠে পড়ে লাগে আমাদের আহলে হাদীস ও সালাফী ভাইয়েরা। আপনারা যদি নিরপেক্ষ হয়ে থাকেন, তবে ইবনে তাইমিয়া সম্পর্কেও এধরনের একটা দু’টা ফতোয়া দিবেন বলে আশা রাখি। হাজী ইমদাদুল্লাহ মুহাজিরে মক্কী রহ. এর একটি ব্যাখ্যা সাপেক্ষ কথা নিয়ে তাকে ঠিকই কটাক্ষ করেন, কিন্তু একই কথা কিংবা এর চেয়ে মারাত্মক কথা ইবনে তাইমিয়া লিখলেও তিনি হন শাইখুল ইসলাম? এধরনের দ্বিমুখী আচরণ কেন?
সউদি মুফতী বোর্ডের ফতোয়া:
কোন ক্ষতি থেকে বাচার জন্য বা উপকার লাভের জন্য জিন বা ফেরেশতাদের নিকট সাহায্য চাওয়া শিরকে আকবার। এটা কেউ করলে সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। এটি তাদেরকে আহ্বানের মাধ্যমে হোক অথবা তাদের নাম লিখে হোক।
ফতোয়ায় সাক্ণর করেছেন,
ইবনে বাজ, আব্দুর রাজ্জাক আফিফী, আব্দুল্লাহ বিন কুউদ।
[ফতোয়া আল-লাজনা, খ.১, পৃ.৭৫]
স্ক্রিনশট:

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.এর আমল:
” سمعت أبي يقول : حججت خمس حجج منها ثنتين [ راكبا ] و ثلاثة ماشيا ، أو ثنتين ماشيا و ثلاثة راكبا ، فضللت الطريق في حجة و كنت ماشيا ، فجعلت أقول : ( يا عباد الله دلونا على الطريق ! ) فلم أزل أقول ذلك حتى وقعت على الطريق . أو كما قال أبي.
ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. এর ছেলে আব্দুল্লাহ বলেন, আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, আমি পাচবার হজ করেছি। এর মাঝে দু’টি হজ্ব আরোহী অবস্থায় এবং তিনটি পায়ে হেটে। আমি পায়ে হেটে হজ করার সময় একবার পথ হারিয়ে ফেললাম। তখন আমি বলতে লাগলাম, হে আল্লাহর বান্দারা ( ফেরেশতা) , আমাকে পথ দেখিয়ে দাও। আমি এটি বলতে ছিলাম হঠাৎ রাস্তা পেয়ে গেলাম।
[মাসাইল, পৃ.২১৭, শুয়াবুল ইমান, ২/৪৫৫/২, ইবনে আসাকির, খ.৩, পৃ.৭২।]
শায়খ আলবানীর মতে ঘটনার সনদ সহীহ।
শায়খ নাসীরুদ্দিন আলবানী তার সিলসিলাতুজ জয়ীফাতে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। শায়খ আলবানী লিখেছেন, [সিলসিলাতুজ জয়ীফার দ্বিতীয় খন্ড, পৃ.১১১ এর অনুবাদ, কিছু মূর্খ না বুঝে আমার উপর অপবাদ দিয়েছে। একারণে বিস্তারিত অনুবাদ উল্লেখ করা হলো]
“ইমাম বাজজার ইবনে আব্বাস রা.থেকে বর্ণনা করেন, রক্ষণাবেক্ষণে নিয়োজিত ফেরেশতা ব্যতীত আরও কিছু ফেরেশতা রয়েছে, যারা গাছের পড়ে যাওয়া পাতারও হিসেব রাখে। তোমাদের কেউ যদি কোন নির্জন ভূমিতে কোন বিপদে পড়ো, তাহলে বলো, হে আল্লাহর বান্দারা, আমাকে সাহায্য করো।
হাফেজ ইবনে হাজার আসকালানী শরহু ইবনে আল্লানে (৫/১৫১) বলেছেন, হাদীসটি সনদ হাসান তবে খুবই গরীব। ইমাম বাজজার হাদীসটি বর্ণনা করে বলেন, আমি নবী কারীম স. থেকে এই সনদ ছাড়া অন্য সনদে হাদীসটি জানি না। ইমাম সাখাবী তার আল-ইবতেহাজ কিতাবে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন। ইমাম হাইসামী হাদীসটি সম্পর্কে বলেছেন, এই হাদীসের বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।
আমি (নাসিরুদ্দীন আলবানী) বলবো, ইমাম বাইহাকী হাদীসটি মওকুফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন। এই হাদীস যদি সহীহ হয়ে থাকে, তাহলে এর দ্বারা পূর্বের হাদীসটি নির্দিষ্ট হয়ে যায় যে, হে আল্লাহর বান্দা দ্বারা ফেরেশতা উদ্দেশ্য। সুতরাং তাদের সাথে মুসলমান জিন বা মানুষ যেমন বুজুর্গ ও অলীদেরকে অন্তর্ভূক্ত করা যাবে না, যাদেরকে রিজালুল গায়েব বলা হয়। এরা জীবিত হোক কিংবা মৃত। কেননা তাদের কাছে সাহায্য চাওয়া স্পষ্ট শিরক। কেননা, তারা এগুলো শুনছে না। যদি তারা শুনেও থাকে, তবে তারা এর উত্তর দিতে পারবে না এবং তার প্রয়োজন পূরো করতে পারবে না। এটি অনেক আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। যেমন আল্লাহ তায়ালা বলেন, ” তোমরা আল্লাহকে ছেড়ে যাদেরকে ডাকো, তারা তুচ্ছ কোন জিনিসেরও মালিক নয়। যদি তোমরা তাদেরকে ডাকো, তারা তোমাদের আহ্বান শুনবে না। আর যদি তারা শুনেও, তারা এর উত্তর দিতে পারবে না। আর কিয়ামতের দিবসে তারা তোমাদের শিরক অস্বীকার করবে। [ফাতির-১৩-২৪]
স্পষ্টত: ইমাম ইবনে হাজার আসকালনী যে হাদীসটিকে হাসান বলেছেন, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. একে শক্তিশালী মনে করতেন। কেননা তিনি এর উপর আমল করেছেন। সুতরা তার ছেলে আব্দুল্লাহ তার আল-মাসাইল (পৃ.২১৭) এ লিখেছে,
আমি আমার পিতাকে বলতে শুনেছি, আমি পাচবার হজ করেছি। এর মাঝে দু’টি হজ্ব আরোহী অবস্থায় এবং তিনটি পায়ে হেটে। আমি পায়ে হেটে হজ করার সময় একবার পথ হারিয়ে ফেললাম। তখন আমি বলতে লাগলাম, হে আল্লাহর বান্দারা ( ফেরেশতা) , আমাকে পথ দেখিয়ে দাও। আমি এটি বলতে ছিলাম হঠাৎ রাস্তা পেয়ে গেলাম।
ইমাম বাইহাকী বর্ণনাটি শুয়াবুল ইমানে (২/৪৫৫/২) ও ইমাম ইবনে আসাকির (খ.৩, পৃ.৭২/১) ইমাম আহমদের ছেলে আব্দুল্লাহর সূত্রে সহীহ সনদে এটি বর্ণনা করেছেন। “
[আলবানীর বক্তব্য শেষ হলো]
[সিল-সিলাতুজ জয়ীফা, খ.২, পৃ.১১১]
স্ক্রিনশট:

সৌদি মুফতী বোর্ডের ফতোয়া অনুযায়ী ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. কাফের হয়ে যাওযার কথা এবং দ্বীন ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার কথা। আর আলবানী সাহেব যে ইমাম আহমাদের এই ঘটনা আনলেন, তিনি কী তাহলে শিরক প্রচার করছেন না?
------ ------
আমাদের ইফতা বিভাগে সরাসরি প্রশ্ন করুন। অভিজ্ঞ মুফতিগণ আপনার ব্যক্তিগত প্রশ্নের উত্তর দেবেন — সম্পূর্ণ গোপনীয়তা ও নির্ভুলতার সাথে।
© COPYRIGHT 2021 - Hasbi Academy - We Love Our Students